কুড়িগ্রামের চিলমারীতে চায়ের দোকানগুলোতে এখন বইছে নির্বাচনি আমেজ। আর মাত্র ৭ দিন বাদেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে গ্রাম থেকে মফস্বল এবং মফস্বল থেকে শহর—সর্বস্তরের মানুষের মাঝে বিরাজ করছে এক অদ্ভুত নির্বাচনি পরিবেশ।
গতকাল সন্ধ্যায় সংসদীয় আসন ২৮, কুড়িগ্রাম–৪ এর নির্বাচনী এলাকা চিলমারীতে ঘুরে দেখা গেছে, সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথেই গ্রামের মোড়ের চায়ের দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষজন। সারাদিনের পরিশ্রম শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে প্রতিদিনের মতোই তারা এখানে একত্রিত হন।

চায়ের দোকানগুলোতে বসে একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং টেলিভিশনে দেশের ও আন্তর্জাতিক খবর দেখেন। এছাড়া দেশে চলমান বহুল আলোচিত নির্বাচন ও গণভোট নিয়েও দোকানগুলোতে জমে উঠছে আলোচনা ও সমালোচনা। দেশ, দেশের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—সবকিছু নিয়েই চলছে কথোপকথন।
এই আলোচনাকে প্রাণবন্ত করে তুলতে প্রধান সঙ্গী হিসেবে থাকে চা। প্রতিটি চুমুকে যেমন মিলছে সজীবতা, তেমনি নতুন চিন্তাচেতনারও জন্ম হচ্ছে বলে মনে করেন অনেকেই।
দরিদ্র ও গ্রামীণ জনপদের খেটে খাওয়া মানুষদের কাছে চায়ের দোকানগুলো এখন অবাধ তথ্য প্রবাহের এক অনন্য মাধ্যম হয়ে উঠেছে। অনেকের মতে, চায়ের দোকানগুলো যেন একেকটি ছোট সংসদ। যেখানে গণতন্ত্র চর্চার বড় কোনো মঞ্চ নেই, সেখানেই এই দোকানগুলোই হয়ে উঠছে গণতন্ত্রের বিচরণের আসল মাধ্যম।