কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় জমির সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। গাছ লাগানোকে কেন্দ্র করে ধাক্কা ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আশরাফ আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের জয়দেব মালসাবাড়ী গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি মধু চন্দ্র শীল (৬২)। তিনি ওই গ্রামের নাপিতপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী আবেদ আলীর পরিবারের সঙ্গে মধু শীলের দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে সীমানায় গাছ লাগাতে গেলে প্রতিপক্ষ আশরাফ আলী বাধা দেন। একপর্যায়ে আবেদ আলী গাছ উপড়ে ফেললে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
বিতণ্ডার একপর্যায়ে আশরাফ আলী, তার স্ত্রী লাকি বেগমসহ কয়েকজন মিলে মধু শীলকে ধাক্কা ও ধস্তাধস্তি করেন। এতে তিনি পাশের নলকূপের গোড়ায় থাকা পাকা প্লাস্টারের ওপর পড়ে গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরে স্থানীয়রা তাকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান আসামি আশরাফ আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নিহতের স্ত্রী ও ছেলে পলাশ শীল ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। উমরমজিদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসানুল কবির আদিল বলেন, “অনেকের কাছ থেকেই ধাক্কা দেওয়ার বিষয়টি শুনেছি। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান না হওয়ায় এমন মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম হয়েছে।