দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা। যেখানে এখনো শিল্পকারখানার ছোঁয়া পৌঁছায়নি, সেখানকার মানুষের জীবিকা মূলত কৃষিনির্ভর। বছরের অধিকাংশ সময় আমন ও বোরো ধান চাষেই ব্যস্ত থাকেন এখানকার কৃষকরা।
তবে এর ব্যতিক্রম চিত্র দেখা যায় উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নে। এখানকার কৃষকরা প্রচলিত ধান চাষের পাশাপাশি ঝুঁকি নিয়ে সবজি চাষে মনোযোগী হয়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আবহাওয়ার অনিশ্চয়তাকে উপেক্ষা করে তারা মাঠে ফলাচ্ছেন নানা ধরনের শাকসবজি।
চলতি মৌসুমে কনকনে শীত উপেক্ষা করে নাওডাঙ্গার কৃষকরা মরিচ, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি আবাদ করেছেন। বীজ বপন থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই ছিল কঠিন সংগ্রাম। তবে শেষ পর্যন্ত সফলতা ধরা দিয়েছে তাদের হাতে।
মরিচ চাষি জয়নাল আবেদীন জানান, এবছর আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে জমিতে বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দেয়। ফসল রক্ষা করতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। তবুও পরিশ্রমের ফল হিসেবে ভালো ফলন পেয়েছেন তিনি।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফিরোজ শাহ্ বলেন, নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের মাটি সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ায় তারা উন্নত ফলন অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষ হয়েছে। ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে সবজির মূল্য সন্তোষজনক থাকায় কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
সবজি চাষে সাফল্যের ফলে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষকদের জীবনে নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। কৃষির এই বৈচিত্র্য ভবিষ্যতে এলাকার অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।